রাজিয়া সুলতানা একজন সফল নারী উদ্যোক্তা এবং সংগঠক। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার স্বামী প্রয়াত এম এ জাহের ছিলেন বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী। তার দুই সন্তান, ছেলে – দীপ এবং মেয়- নুপুর । ছেলে দীপ , বর্তমানে দীপ টেক্সটাইল এর ব্যাবস্থানাপনা পরিচালক । স্বামীর বাংলাদেশে বিমানের কর্মকর্তা হওয়াতে রাজিয়া সুলতানা পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছেন অর্জন করেছেন প্রচুর অভিজ্ঞতা ।
ছোটবেলা থেকেই সবুজ প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতেন রাজিয়া সুলতানা। তিনি গাছপালা লাগানো ও পরিচর্যা করতে খুব ভালোবাসতেন। রাজিয়া সুলতানার পিতারা নাম এম এ রসিদ ছোটবেলায় তিনি তার বাবার সাথে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেতেন। বিভিন্ন জায়গায় তিনি প্রচুর গাছপালা দেখতেন। তিনি গাছপালা দেখে মুগ্ধ হতেন। তিনি গাছপালার সাথে মিশে যেতে চাইতেন।

সময়ের সাথে তার বৃক্ষপ্রেম আরও বেড়ে যায়। একসময় তিনি ইকেবেনা সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। ইকেবেনা হলো জাপানি ফুলের সাজসজ্জা শিল্প। এই শিল্পের সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে তার বৃক্ষ কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা আরও সমৃদ্ধ হয়। তিনি ইকেবেনা শিল্পের মাধ্যমে শিখেন যে, ফুল শুধুমাত্র সৌন্দর্যময়ই নয়, এটি মন ভালো রাখার এক গুরত্বপূর্ণ উপাদান এবং আমাদের পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯৪ সালে রাজিয়া সুলতানা প্রতিষ্ঠা করেন “শখ”। শখের মাধ্যমে তিনি ল্যান্ডস্কেপিং এবং প্লান্টেশনের কাজ শুরু করেন। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এই ক্ষেত্রে সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। শখ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ল্যান্ডস্কেপিং এবং প্লান্টেশন প্রতিষ্ঠান। শখের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বাড়িঘর, অফিস, বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদি সবুজ করে তুলেছেন। তার অনেক কাজ এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য জাতির জনক শেখ মজিবুর রহমানের জন্মস্থান টুঙ্গীপাড়ার মজেলিয়াম। টুঙ্গিাড়ার প্লান্টেশন এর জন্য তিনি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন ।
২০০৬ সালে রাজিয়া সুলতানা শখ এর সাথে যুক্ত করেন শখ ক্রাফ্টস । শখ ক্রাফটস এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সোনালি আশ থেকে তৈরি পণ্য ছাড়ায় ড্রাই ফ্লাউয়ার, রাজশাহী সিল্ক বাজারজাতকরণের কাজ শুরু করেন। তার প্রধান লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশীয় পণ্য দেশে এবং বিদেশে প্রমোট করা ।
রাজিয়া সুলতানা একজন সফল উদ্যোক্তা এবং সংগঠক। তিনি তার কাজের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি নারীদের ক্ষমতায়নেও কাজ করছেন। তার স্বপ্ন সকলে মিলে সুন্দর, সবুজ পরিবেশ বান্ধব পৃথিবীতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা। তিনি বলেন, “আমি চাই আমাদের দেশ সবুজ হোক। আমি চাই আমাদের দেশের মানুষ পরিবেশের প্রতি সচেতন হোক। আমি চাই নারীরা ক্ষমতায়িত হোক।”
রাজিয়া সুলতানা একজন অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা এবং সংগঠক। তিনি তার কাজের মাধ্যমে আমাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছেন।রাজিয়া সুলতানার কাজের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।রাজিয়া সুলতানা একজন সত্যিকারের অগ্রদূত। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন যে, একজন নারীও যেকোনো ক্ষেত্রে সফল হতে পারে।
